যক্ষ্মা বা টিবি রোগ কি? যক্ষ্মা বা টিবি রোগী দূত সুস্থ হবার খাবার তালিকা

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের নাম শুনলেই সকলে আঁতকে ওঠে। আগে বলা হত যক্ষ্মা হলে রক্ষা নেই। এক কথায় রাজরোগ। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এর কোনও চিকিৎসা ছিল না। মানুষকে করে রাখা হতো একঘরে। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কারের ফলে এই রোগটিকেও মানুষ আনতে পেরেছে আয়ত্তে।

যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত ব্যাক্টিরিয়া ঘটিত রোগ। মাইকোব্যাকটেরিয়াল টিউবারকিউলোসিস নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে যক্ষ্মা হয়ে থাকে।যক্ষ্মা বা টিবি রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের খেতে হলে পুষ্টিগুন সমিদ্ধ খাবার।তাই আজ আলোচনা করবো যক্ষ্মা বা টিবি রোগীরা কি কি খাবার খাবে তার তালিকা।যক্ষ্মা বা টিবি রোগী দূত সুস্থ হবার খাবার তালিকা

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ কি?

যক্ষ্মা (টিউবার্‌কিউলোসিস্‌ বা টিবি) একটি সংক্রামক রোগ। যার কারণ মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামের জীবাণু।

“যক্ষ্মা” শব্দটা এসেছে “রাজক্ষয়” থেকে। ক্ষয় বলার কারণ এতে রোগীরা খুব শীর্ণ (রোগা) হয়ে পড়েন ।

যক্ষ্মা প্রায় যেকোনও অঙ্গে হতে পারে (ব্যতিক্রম কেবল হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশী ও থাইরয়েড গ্রন্থি)। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসে।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের প্রকারভেদ

যক্ষ্মা বা  টিবি রোগ প্রধানত দুই প্রকার যথা-

১।সক্রিয় যক্ষ্মা

২।সুপ্ত যক্ষ্মা

১।সক্রিয় যক্ষ্মা

সক্রিয় যক্ষ্মা হল যখন টিবি ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে যক্ষ্মার সক্রিয় লক্ষণ দেখা দেয়। সক্রিয় টিবি সংক্রামক; আপনার যদি এটি থাকে তবে আপনি এটি অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

এর সাধারণ লক্ষণ যক্ষ্মা টাইপ অন্তর্ভুক্ত করবে:

-হঠাৎ ক্ষুধা কমে যাওয়া

-জ্বর এবং/অথবা ঠান্ডা

-রাতের ঘাম

-দুর্বলতা বা ক্লান্তি

-কোন ব্যাখ্যাযোগ্য কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস

২।সুপ্ত যক্ষ্মা

সুপ্ত যক্ষ্মা হল এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনার টিবি সংক্রমণ আছে, কিন্তু টিবি ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে নিষ্ক্রিয় বা সুপ্ত থাকে। এর ফলে কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না।

যদিও ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরের অভ্যন্তরে থাকতে পারে, আপনার ইমিউন সিস্টেম তাদের আপনার শরীরকে প্রভাবিত করা থেকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যাইহোক, আপনি টিবি রক্ত ​​এবং ত্বক পরীক্ষার জন্য ইতিবাচক পরীক্ষা করবেন।

কিছু বিরল ক্ষেত্রে, সুপ্ত টিবি সক্রিয় টিবিতে পরিণত হতে পারে।

আক্রান্ত শরীরের অংশের উপর ভিত্তি করে যক্ষ্মার ধরন-

১।এক্সট্রাপালমোনারি যক্ষ্মা

২।যক্ষ্মা লিম্ফডেনাইটিস

৩।কঙ্কাল যক্ষ্মা

৪।গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল যক্ষ্মা

৫।জিনিটোরিনারি যক্ষ্মা

৬।যকৃতের যক্ষ্মা

৭।মেনিনজিয়াল যক্ষ্মা

৮।যক্ষ্মা পেরিটোনাইটিস

৯।সামরিক যক্ষ্মা

১০।যক্ষ্মা পেরিকার্ডাইটিস

১১।ত্বকের যক্ষ্মা

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ কেন হয়?

যক্ষ্মা মূলত একটি সংক্রামক রোগ। বলা হচ্ছে, সংক্রামক রোগের ভেতর সারা পৃথিবীতে যক্ষ্মাই ‘টপ কিলার’ বা ‘শীর্ষ খুনি’। মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামে এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া এই রোগের জন্য দায়ী। জীবাণুর সঙ্গে মিলিয়ে ডাক্তারি ভাষায় এই রোগের নাম রাখা হয়েছে ‘টিউবারকুলোসিস’। সংক্ষেপে টিবি নামেই সবাই চেনে। এককালে যক্ষ্মাকে ‘ক্ষয় রোগ’ বা ‘রাজ রোগ’ বলা হতো। কারণ, এই রোগে রোগী খুবই শীর্ণ হয়ে পড়ে, আর মৃত্যু ছিল প্রায় অবধারিত।

যক্ষ্মা এখন নিরাময়যোগ্য অসুখ। তবে এর কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাক্সিন নেই।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ কীভাবে ছড়ায়

যক্ষ্মা রোগ ছড়ায় মূলত বাতাসের মাধ্যমে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে রোগের জীবাণু আরেক ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া কাঁচা দুধ, পাস্তুরিত দুধের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে যক্ষ্মা।

ঘন বসতি, নোংরা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিম্ন জীবনমান, অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব ইত্যাদি যক্ষ্মা সংক্রমণে সাহায্য করে।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের লক্ষণ উপসর্গ

সুপ্ত টিবি সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোনো উপসর্গ থাকে না, অসুস্থ বোধ করেন না এবং অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন না। তবে তারা ম্যানটক্স স্কিন টেস্টে ইতিবাচক পরীক্ষা করে। সুপ্ত যক্ষ্মা চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সক্রিয় হতে পারে, বিশেষ করে যদি পুষ্টির ঘাটতি বা এইচআইভি সংক্রমণ সহ কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

একটি সক্রিয় সংক্রমণের ক্ষেত্রে, আক্রান্ত অঙ্গ অনুসারে লক্ষণগুলি পরিবর্তিত হতে পারে।

যদি ফুসফুস আক্রান্ত হয় তবে লক্ষণগুলি হল

১।একটি কাশি 2 থেকে 3 সপ্তাহ এবং তার পরেও স্থায়ী হয়, যা সাধারণত সকালে আরও খারাপ হয়

২।বুক ব্যাথা

৩।থুতুতে রক্ত ​​(কাশি বা গলা

৪।পরিষ্কার করার সময় শ্লেষ্মা এবং লালা উৎপন্ন হয়)

৫।শ্বাসকষ্ট

৬।মেরুদণ্ডের যক্ষ্মা হলে পিঠে ব্যথা হতে পারে এবং

৭। কিডনিতে যক্ষ্মা হলে প্রস্রাবে রক্ত ​​হতে পারে।

মস্তিষ্কে টিবি মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হওয়া, বিভ্রান্তি, বমি, পরিবর্তিত মানসিক অবস্থা, খিঁচুনি এবং স্নায়ু সম্পর্কিত অন্যান্য লক্ষণ ও উপসর্গের কারণ হতে পারে।

সাধারণত, যে কোনো অঙ্গে সক্রিয় টিবি আক্রান্ত ব্যক্তির নিম্নলিখিত উপসর্গ থাকতে পারে:

১।ওজন কমানো

২।ক্ষুধামান্দ্য

৩।ঠাণ্ডা

৪।জ্বর

৫।আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও রাতে ঘুমানোর সময় ঘাম হয়

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ প্রতিরোধের উপায়ঃ

১) জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দিতে হবে।

২) যক্ষ্মা আক্রান্তদের ঘনিষ্ঠ সহচার্য এড়িয়ে চলুন।

৩) পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

৪) নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস তৈরি করুন।

৫) বাসস্থানের পরিবেশ খোলামেলা, আলো-বাতাস সম্পন্ন হতে হবে।

৬) ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ ধরনের রোগ থাকলে যথাযথ চিকিৎসা নিন।

৭) পরিচ্ছন্ন থাকুন।

৮) যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীকে সবসময় নাক মুখ ঢেকে চলাচল করতে হবে। যক্ষ্মা জীবাণুযুক্ত রোগীর সঙ্গে কথা বলার সময় একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন। রোগী জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে অন্য সবার থেকে একটু আলাদা রাখা ভালো। জীবাণুযুক্ত রোগীকে যেখানে সেখানে কফ ফেলা পরিহার করতে হবে।

৯) ওষুধের কোর্স শেষ করতে হবে।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের চিকিৎসা

যখন কোন এ্যান্টিবায়োটিক যক্ষ্মা রোগের সকল জীবাণু ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয় তখনই ঔষধ প্রতিরোধক যক্ষ্মার সূত্রপাত হয়।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের চিকিৎসা গ্রহণ না পূবে যে বিষয় খেয়াল রাখতে হবে –

১।কখন ডাক্তার দেখাবেন

যক্ষ্মার লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

২।কোথায় চিকিৎসা করাবেন

বাংলাদেশের সকল- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেলা সদর হাসপাতাল বক্ষব্যাধি ক্লিনিক/হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এনজিও ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সমূহে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষ্মার চিকিৎসা করা হয় ও ঔষধ দেয়া হয়।

৩।কি ধরনের পরীক্ষা

নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে সাধারণ পরীক্ষা ত্বকের পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা।

৪।অন্যান্য পরীক্ষা

বুকের এক্স-রে পরীক্ষা অথবা সিটি স্ক্যান কালচার টেস্ট পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হলেও অনেক সময় যক্ষ্মার সংক্রমণ হতে পারে। যেমন : যক্ষ্মার সংক্রমণের ৮-১০ সপ্তাহ পরে তা ত্বকের পরীক্ষায় ধরা পড়ে। তার আগে পরীক্ষা করলে ধরা নাও পড়তে পারে এইডস এর মতো কোন রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে অনেকসময় পরীক্ষায় যক্ষ্মা রোগ ধরা পড়ে না। এছাড়া এইডস এবং যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো প্রায় এক রকম হওয়ায় এইডস রোগীদের যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি জটিল হয়ে থাকে।

হামের টিকা নিলে এগুলোতে অনেক সময় জীবন্ত জীবাণু (Live virus) থাকে, এর জন্য ত্বক পরীক্ষায় যক্ষ্মা ধরা নাও পড়তে পারে। শরীরে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বেশি মাত্রায় ছেয়ে গেলে (Overwheliming TB disease) ত্বকের পরীক্ষায় রোগের জীবাণু ধরা নাও পড়তে পারে অনেক সময় সঠিকভাবে পরীক্ষা না করলেও এতে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু ধরা পড়ে না।

৫।কি ধরনের চিকিৎসা আছে

ডটস পদ্ধতিতে অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদী, সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা করা হয়। এজন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের ধরন, মাত্রা এবং রুগীর বয়স অনুসারে ঔষধের কোর্স সম্পূর্ণ করতে হবে। যক্ষ্মার চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে: এন্টিবায়োটিক সেবন। সাধারণত ৬-৯ মাস ব্যাপী এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করতে হবে টিবি রোগের আরকেটি উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগীর খাবার তালিকা

যক্ষ্মা বা টিবি নিরাময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি রোগীর খাদ্যাভ্যাসের দিকটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেনে রাখা দরকার, যক্ষ্মা বা টিবি রোগীর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত।

১।শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট

যক্ষ্মা বা  টিবি রোগীর খাদ্য তালিকায় অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থাকতে হবে। কোনোভাবেই লো-কার্ব ডায়েট দেওয়া ঠিক হবে না। প্রধান খাবার হতে পারে লাল চালের ভাত, রুটি, খিচুড়ি, হালুয়া প্রভৃতি।

২।আমিষ বা প্রোটিন

আমিষ বা প্রোটিনখেয়াল রাখতে হবে একজন নারী রোগী যাতে প্রতিদিন অন্তত ৪৬ গ্রাম এবং পুরুষ রোগী যাতে অন্তত ৫৬ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করে। এই খাবার হতে পারে শিমের বিচি, ডাল, দুধ, ডিম, পুডিং, মাছ, যেকোনো মাংস প্রভৃতি। এই খাবারগুলো রোগীর পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নতুন দেহকোষ গঠনে এবং কোষের ক্ষয় পূরণে ভূমিকা রাখবে।

৩।ফ্যাটজাতীয়

ফ্যাটজাতীয় খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে, যা তার ক্যালোরির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো (এ, ডি, ই, কে) সংশ্লেষণে সাহায্য করবে।

৪।ভিটামিন

ভিটামিনখেয়াল রাখতে হবে, যক্ষা রোগীর প্রতিদিনের খাবারে যেন পর্যাপ্ত ভিটামিনের উপস্থিতি থাকে। যেমন-

*ভিটামিন ‘এ’ : খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখুন হলুদ, সবুজ ফলমূল ও শাকসবজি।

*ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স : ঢেঁকি ছাঁটা চাল, শাকসবজি, দুধ, পোলট্রি ইত্যাদি।

*ভিটামিন ‘সি’ : মৌসুমি টক ফল, লেবু, টমেটো, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি হতে পারে ভিটামিন ‘সি’র ভালো উৎস।

*ভিটামিন ‘ই’ : বাদাম, ডিমের কুসুম, শিমের বিচি ইত্যাদি।

৫।মিনারেলসআয়রন

পালংশাক, কচুশাক, কাঁচা কলা, শিমের বিচি, মিষ্টি কুমড়ার বিচি, কাজুবাদাম, লাল মাংস ইত্যাদি।

৬।সেলেনিয়াম

আখরোট, রসুন, মুরগি, টার্কি মুরগি, মাশরুম, ওটস, কলা, বাদাম প্রভৃতি।

৭।জিংক

শস্যজাতীয় খাবার, ডিম, ডাল প্রভৃতি।

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস

২৪ মার্চ, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস।  যক্ষ্মা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘যক্ষ্মা নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হোন—বাদ যাবে না একজনও’।

২০১৭ সাল ‘যক্ষ্মা নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হোন’—এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় বছর ছিল। গত বছর একই থিম নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এবার এর সঙ্গে যোগ করা হয়েছে ‘বাদ যাবে না একজনও’ বাক্যটি। দেখা যায়, এ জাতীয় প্রায় সব কর্মসূচিতেই সমাজের একটা অংশ বাদ পড়ে যায়। এরা হলো সমাজের দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। অথচ এরাই যক্ষ্মা রোগের প্রধান শিকার।

সমাজের এই অংশটিকে বাইরে রেখে যক্ষ্মা নির্মূলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। যক্ষ্মা রোগটি বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের ‘টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা’র একটি অংশ হলো ‘২০৩০ সালের ভেতর যক্ষ্মা নির্মূল করা’। সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় আনতে না পারলে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

হু-র সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন ধরনের যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছে। এর ভেতর ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উত্তর

১।যক্ষ্মা বা  টিবি এর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কারা?

উত্তরঃ

নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি বেশি:

-তাদের উত্পাদনশীল বছর মানুষ

-এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ

-একটি আপসহীন ইমিউন সিস্টেম সঙ্গে মানুষ

-ধূমপান এবং মদ্যপান অভ্যাস সঙ্গে মানুষ

২।মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট TB কি?

উত্তরঃমাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা বা  টিবি প্রথম সারির অ্যান্টি-যক্ষ্মা বা  টিবি ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। তাদের আক্রমনাত্মক চিকিৎসা প্রয়োজন, যা 2 বছর পর্যন্ত চলতে পারে। ওষুধগুলি ব্যয়বহুল এবং বিষাক্ত প্রভাব রয়েছে।

৩।DOTS কি?

উত্তরঃDOTSহল প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা চিকিৎসা শর্ট-কোর্স কৌশল, যা যক্ষ্মা বা  টিবি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী থেরাপি।

৪।যক্ষা কি ভাইরাস জনিত রোগ?

উত্তরঃযক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে।”

৫।যক্ষ্মার তিনটি ধাপ কি কি?

উত্তরঃযক্ষ্মার 3 টি পর্যায় রয়েছে- এক্সপোজার, সুপ্ত এবং সক্রিয় রোগ ।

৬।টিবি রোগীর চিকিৎসা কি?

উত্তরঃআপনার যদি একটি সক্রিয় টিবি রোগ থাকে তবে সম্ভবত ছয় থেকে 12 মাসের জন্য আপনাকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধের সংমিশ্রণে চিকিত্সা করা হবে।

৭।যক্ষ্মা কতটা মারাত্মক?

উত্তরঃব্যাকটেরিয়া সাধারণত ফুসফুসে আক্রমণ করে, কিন্তু টিবি ব্যাকটেরিয়া শরীরের যেকোনো অংশ যেমন কিডনি, মেরুদণ্ড এবং মস্তিষ্ক আক্রমণ করতে পারে। টিবি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত সবাই অসুস্থ হয় না। ফলস্বরূপ, দুটি টিবি-সম্পর্কিত অবস্থা বিদ্যমান: সুপ্ত টিবি সংক্রমণ (এলটিবিআই) এবং টিবি রোগ। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে যক্ষ্মা রোগ মারাত্মক হতে পারে ।

৮।টিবি রোগীর কাছাকাছি থাকা কি নিরাপদ?

উত্তরঃএটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে শুধুমাত্র ফুসফুসে সক্রিয় টিবি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিই জীবাণু ছড়াতে পারে । টিবি সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ছোঁয়াচে নয়, তাদের কোনো উপসর্গ নেই এবং তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।

শেষকথা

যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যার কার্যকর চিকিৎসা হল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান এবং অ্যালকোহল পান করা এড়িয়ে চলা এবং সময়মতো ওষুধ গ্রহণের মতো জীবনযাত্রার বিভিন্ন পরিবর্তন যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তাই সঠিক খাদ্য গ্রহণ করুন সুস্থ থাকুন।

Post tags –

টিবি রোগের পরীক্ষা,টিবি রোগের ঔষধের নাম,টিবি রোগ কেন হয়,টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার,যক্ষা রোগের লক্ষণ,টিবি রোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,যক্ষ্মা রোগের প্রতিকার,টিবি রোগ কি ছোয়াছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *